মানুষ জাতি কবিতাটি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'অভ্র আবীর' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। মূল কবিতার নাম 'জাতির পাঁতি'।
দেশে দেশে, ধর্মে ও বর্ণের পার্থক্য সৃষ্টি করে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে, কবি মানুষকে তার চেয়ে উপরে আসন দিয়েছেন।
আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষেরই বাসভূমি। এই ধরণীর স্নেহ-ছায়ায় এবং একই সূর্য ও চাঁদের আলোতে লালিত ও প্রতিপালিত হচ্ছে সব মানুষ। শীতলতা ও উষ্ণতা, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুভূতি সব মানুষেরই সমান। বাইরের চেহারায় মানুষের মধ্যে সাদা-কালোর ব্যবধান থাকলেও সব মানুষের ভেতরের রং এক ও অভিন্ন। সবার শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে একই লাল রক্ত।
মানুষ আজ জাতিভেদ, গোত্রভেদ, বর্ণভেদ ও বংশকৌলীন্য ইত্যাদি কৃত্রিম পরিচয়ে নিজেদের পরিচয়কে সংকীর্ণ ও গণ্ডিবদ্ধ করেছে। কিন্তু গোটা দুনিয়ার সঙ্গে মানুষের যে জন্মসম্পর্ক, সেই বিচারে মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ এবং তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবার কথা নয়। সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র-পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যে সমগ্র মানবসমাজ, কবি এই কবিতায় মানুষের সে পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন। পৃথিবীর সব মানুষকে নিয়েই গড়ে উঠেছে মানুষ জাতি।
Content added By